1. admin@newsnarayanganjbd.com : newsnarayanganj :
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

করোনার চেয়েও কিস্তির ভয়ে বেশি আতঙ্কিত জেলার ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০
  • ১১২ জন সংবাদটি পড়েছেন

রোনাভাইরাস আতঙ্কে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জবাসীও। এই পরিস্থিতিতে অনেকে যখন বাড়িতে থাকার কথা চিন্তা করছে, ঠিক তখনই ক্ষুদ্রঋণের কথা মাথায় আসছে হাজার হাজার নিন্ম আয়ের মানুষের। তারা বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও সমিতির ঋণের কিস্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বা কাজ বন্ধের কথা মনে হলে ঋণের কিস্তি শোধের চিন্তায় কপালে ভাজ পড়ছে তাদের।
এদিকে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে ও সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনের নির্দেশনার কারণে অনেক খেটে খাওয়া মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় ব্যাটারি চালিত অটো ও রিকশাসহ ক্ষুদ্র যানবাহন চালকরা রাস্তায় নামলেও তেমন যাত্রী পাচ্ছেন না। এছাড়াও বিভিন্ন পেশার দিনমজুরের আয় কমে গেছে অনেক। করোনা আতঙ্কের জন্য আয় কমে গেলেও ছাড় দিচ্ছে না এনজিওগুলো। এনজিওগুলোর কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতার বাড়িতে বসে থেকে চাপ প্রয়োগ করছে। উপায় না দেখে দিনমজুররা বাড়িতেও থাকতে পারছেন না। পরিবার পরিজন ছেড়ে অনেকটা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ।
ফতুল্লায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি হামিদুল জানান, আমাদের নিজেদের কোনো টাকা নেই। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দোকান কিনেছি। ঘরে থাকতে হলে তো দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তখন ঋণের কিস্তি শোধ করবো কীভাবে?
স্থানীয় এক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্কুলের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে ঋণের কিস্তি ও সংসার চালিয়ে আসছিলেন মুকবুল হোসেন। করোনার জন্য এখন স্কুল বন্ধ। তাই কোনো আয় নেই। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ। কিন্তু ঋণের কিস্তির চাপ রয়েছে অনেক। সারা দিনে এনজিওর লোকজন কয়েকবার বাড়িতে আসে। কিস্তি না পেয়ে বকাঝকা করে।
শ্রমিক লাবু, মনির ও বাদল বলেন, আমাদের তো কাজ করলে পেটে ভাত জোটে না করলে জেটে না। আমরা কীভাবে ঘরে থাকবো? এর ওপর কমবেশি কিস্তি আছে সবার। সরকারের কাছে অনুরোধ ভাইরাস যতদিন না যায় ততদিন অন্তত আমাদের কিস্তিটা বন্ধ রাখুন। একদিকে করোনার আতঙ্ক তার ওপর কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়বো। আমাদের জন্য একটু লিখুন।
সিদ্ধিরগঞ্জের এক দোকানী আমির হোসেন বলেন, মানুষ ঘরবন্দি হয়ে যাওয়ায় দোকানে বিক্রি কমে গেছে। এই দোকানের আয় থেকে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। পাশাপাশি দোকান চালানোর জন্য দুটি সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছি। সেখানে একটিতে সপ্তাহে ১ হাজারর ৭০০ টাকা ও অপরটিতে মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়।
কদমতলী এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, এই সংকটের সময়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি উত্তোলন স্থগিত করা হোক। না হয় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আরও অতিষ্ঠ হবে প্রান্তিক জনজীবন।
শিবু মার্কেট এলাকার অটোরিকশা চালক আরমান মিয়া বলেন, ৬০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়ে অটোরিকশা কিনেছি। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হতো। সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করে স্ত্রী ২ সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে সংসার চলে যেত। এখন সারা দিনে আয় হয় ১ থেকে দেড়শ’ টাকা। কিস্তি দিব, সংসার চালাবো নাকি বৃদ্ধা মায়ের ওষুধ কিনব? পেটে পাথর বেঁধে থাকলেও কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে।
মকবুল ও আরমান মিয়ার মতো এই রকম চিত্র জেলার বিভিন্ন এলাকায়। করোনা ভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে এজন্য লোক সমাগমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এনজিও মাঠকর্মীরা এলাকায় কিস্তি আদায় করতে গিয়ে অবাধে লোক সমাগম করছে। এক একটি এলাকায় ৩০ থেকে ৫০ জন নারী কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য একত্রিত হচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আনাচে-কানাছে ঋণ বিতরণ করে প্রতিনিয়ত কিস্তি আদায় করছে ব্র্যাক, প্রশিকা, রুর‌্যাল, ব্যুরো বাংলাদেশ, আশা, রিক, এসএসএস, পল্লী মঙল, পপী, পিদিম ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশনসহ অন্তত অর্ধশতাধিক এনজিও।
ফতুল্লার একজন মুরুব্বী বলেন, সরকারের সতর্কতা জারির কারণে ও করোনা আতঙ্কে সাধারণ মানুষের আয় কমে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তার উপরে এনজিওদের ঋণের চাপ মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিস্তির টাকা আদায় বন্ধে সরকারের এখনই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
আদমজী এলাকার একজন গৃহনী জানান, এনজিও থেকে মাসিক কিস্তিতে ঋণ নিয়েছি। করোনা ভাইরাসের জন্য বিদেশের অবস্থাও ভালো না। ফলে টাকা পাঠাতে পারছে না। এখন কিস্তির চিন্তায় ঘুম হারাম। মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। কিস্তির টাকা না দিলে এনজিওর লোকেরা বাড়ি ছাড়ে না। এখন করোনার চেয়েও কিস্তিটাই বেশি আতঙ্ক মনে হচ্ছে আমার কাছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাঠ পর্যায়ের এনজিও কর্মী জানান, ঋণ বিতরণ করার পর উত্তলন করার দায়িত্ব তাদের। কেউ কিস্তি না দিলে পকেট থেকে অফিসকে দিতে হয়। আমাদেরও চাকরি বাঁচাতে হবে। সরকার কিস্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত দিলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। চাকরি করতে হলে অফিস যা বলবে আমাদেরও তো তাই করতে হবে।

সংবাদটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও সংবাদ

আমাদের দৈনিক পত্রিকা পড়ুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
Customized By NewsSmart