1. admin@newsnarayanganjbd.com : newsnarayanganj :
  2. robinnganj@gmail.com : newsnganj newsnganj : newsnganj newsnganj
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

দুর্নীতিবাজদের পক্ষেও মানবিক আবেদন প্রকাশ হয় ‘পত্রিকায়’

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৫৪ জন সংবাদটি পড়েছেন
দুর্নীতিবাজদের পক্ষেও মানবিক আবেদন প্রকাশ হয় ‘পত্রিকায়’

চমক চৌধুরী : আগে দেখেছি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তা কামনা করে পত্রিকায় মানবিক আবেদন ছাপা হতো। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে অসহায় পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতো সমাজের বিত্তবানরা। এতদিন আমরা এটাই দেখেছি পত্রিকার পাতায়। কিন্তু অবস্থা বদলে গেছে, পত্রিকার পাতায় এখন দুর্নীতিবাজদের পক্ষেও ‘মানবিক আবেদন’ শিরোনামে লেখা ছাপা হচ্ছে। তাও আবার টাকার বিনিময়ে। বিষয়টি বেশ অবাক করা, কিন্তু বাস্তবতাও বটে। কারণ পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে দ্রুততার সঙ্গে ধনী হওয়া যায়। আর এদেশে ধনী হওয়ার সহজপন্থা দুর্নীতি। দুর্নীতিবাজরা সমাজের প্রতিটি পেশাতেই রয়েছে। এ থেকে বাদ যায়নি সাংবাদিকের কলমও।
‘সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন’-এ শ্লোগানে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় প্রতিদিন হাজারো মিথ্যা ছাপা হচ্ছে। করা হচ্ছে ব্যক্তি পর্যায়ে বিষোদগার। পত্রিকাটি সত্যের চেয়ে মিথ্যাই বেশি প্রচার করে থাকে। পত্রিকাটির সবচেয়ে বড় টার্গেট রাজনীতিবিদরা।
মিথ্যার সঙ্গে পত্রিকাটির বড় ভাব। মানুষের চরিত্রহরণই তাদের প্রধান হাতিয়ার। সংবাদপত্রের নীতিমালা তোয়াক্কা করে না পত্রিকাটি। তাদের পত্রিকায় একটি ছবি প্রকাশ করতে হলেও চাই টাকা।
৩০ নভেম্বর এই পত্রিকাটির প্রথম পাতায় মোট ছয়টি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে দুই কলামে প্রকাশিত ‘একটি মানবিক আবেদন’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়। লেখাটি পড়ে রীতিমতো চোখ কপালে উঠার অবস্থা। কারণ যাদের পক্ষে লেখাটি ছাপা হয়েছে তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। শিক্ষকতা পেশার আড়ালে এরা ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্যে জড়িত।
পত্রিকাটিতে প্রকাশিত ‘একটি মানবিক আবেদন’-শিরোনামে লেখাটি পড়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেলো, শামীমা নাসরীন ও শওকত আলী দম্পতি উভয়ই শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত। শওকত আলী নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। তার স্ত্রী শামীমা নাসরীন কানাইনগর সোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের শিক্ষক। স্বামী-স্ত্রী থাকেন স্বামী শওকত আলীর কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোয়াটারে। গত ১৮ বছর যাবৎ তারা স্কুল কোয়াটারে বসবাস করেন। দুইবারে এসএসসি পাশ করা শামীমার চাকরিও হয়েছে পেছনের দরজা দিয়ে।
শওকত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি স্কুলের ভর্তি বাণিজ্যের হোতা। গত বছর ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীকে ভিন্নপথে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। চলতি বছর এই রেট ২ লাখ টাকা হাঁকা হয়েছে। এছাড়া শওকত আলী আগামী বছর স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে ৫ হাজার টাকায় সাজেশন বিক্রি করছেন। আর যেসব অভিভাবক তার মেয়েকে স্কুলে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান তারা শওকত আলীর সঙ্গে দেনদরবার করছেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেলো, শওকত আলী নামে-বেনামে ৫টি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত। এরমধ্যে তার স্ত্রী শামীমার নামে একটি কোচিং সেন্টার নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত। যদিও সরকারী ভাবে কোচিংকে সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরেও বিভিন্ন কৌশলে শওকত আলীর কোচিং ও ভর্তি বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। এ সংক্রান্ত সংবাদ নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দু’টি দৈনিকে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আর তখনই টাকার বিনিময়ে অপর একটি পত্রিকা দুর্নীতিবাজ এই শিক্ষক দম্পত্তির পক্ষে তাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে পত্রিকায় প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত লেখাটিতে একজন গণমাধ্যম কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কাকের মাংস কাক না খেলেও এক্ষেত্রে হয়েছে তার উল্টো। পত্রিকাটি তাদের স্পেস বিক্রি করেছেন দুর্নীতিবাজদের পক্ষে। যা কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে নিজেরাই টাকার বিনিময়ে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। যেখানে তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত হাতে অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।

সংবাদটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ বিভাগের আরও সংবাদ