1. admin@newsnarayanganjbd.com : newsnarayanganj :
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০৪:২০ অপরাহ্ন

নাসিক মেয়র আইভীকে তিন এমপি’র ভৎসনা

বিশেষ প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২০
  • ৮৬০ জন সংবাদটি পড়েছেন
নাসিক মেয়র আইভীকে তিন এমপি’র ভৎসনা

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের পাশে প্রকাশ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ এবং নগরের মশা নিধনে ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের তিনজন সংসদ সদস্য তাদের বক্তব্যে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ভৎসনা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই কর্মসূচি শুরুর আগে নাারয়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সুধী সভায় নাসিক মেয়ররের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ওই তিন সংসদ সদস্য। তবে অনুষ্ঠানে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উপস্থিত ছিলেন না। বক্তব্য রাখা তিন সংসদ সদস্য হলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের একেএম সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলা বাবু।
সংসদ সদস্য শামীম ওসমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে শিক্ষার্থীরা শুরুতেই ময়লা ও যানজটের কথা বলেন। রোড পারমিট নাই কিন্তু গাড়ি চলছে। মানুষ ট্যাক্স দিবে, কিন্তু মশার কামড় খাবে, ময়লার মধ্যে থাকবে এটা তো হতে পারে না। নারায়ণগঞ্জ শহরে কোন শৃঙ্খলা নাই। মানুষ চায় সুশাসন। মানুষ চায় দরজা খুলে ঘুমাতে। সিটি করপোরেশনের সিও সাহেব যেহেতু এখানে উপস্থিত আছেন তাকে অনুরোধ করবো এসব বিষয়ে আপনারা একটি উদ্যোগ নেন।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের প্রবেশদ্বারে প্রচুর ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়। ওইটা সিটি করপোরেশনের জায়গা। সিটি করপোরেশন বলবে আমরা ফেলি না। আমি যখন নারায়ণগঞ্জে আসি তখন গাড়ির গ্লাস বন্ধ করে আসি। সেখানে বর্জ্যের উপর আবার আগুন দেওয়া হয়। সেই আগুনের ফলে যে ধোঁয়া হচ্ছে তা আশেপাশে যেভাবে পরিবেশ নষ্ট করছে তা করোনা ভাইরাসের চেয়েও বেশী ভয়াবহ।’
নগরের রহমতউল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউট ভেঙ্গে ফেলা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘রহমতউল্লাহ ইন্সটিটিউটের সঙ্গে স্বাধীনতার স্মৃতি, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জড়িত। বঙ্গবন্ধু এখানে শতবার এসেছেন। এটা জেলা প্রশাসনের, কিন্তু ভেঙ্গে দিল সিটি করপোরেশন। এগুলো সঠিক না। সিটি করপোরেশন এটিকে রাস্তা প্রশ^স্ত করার কথা বলে ভেঙ্গে দিয়েছে। কিন্তু সেখানে তারা রাস্তা প্রশ^স্ত না করে অন্য কিছু করছে। এগুলো ঠিক নয়।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের কাজ আইন তৈরি করে দেওয়া। এগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব জেলা পরিষদের, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশনের। আমরা কখনও সিটি কর্পোরেশনকে বাদ দিয়ে স্কুল মসজিদের কাজ ছাড়া অন্য কাজ করতে গেলে আইনের বিধান রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদনের মাধ্যমে করতে হবে। আজকের অনুষ্ঠানে যে সব কথা বলা হয়েছে সেগুলোর উত্তরগুলো সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তার দেয়ার কথা। যেহেতু মেয়র এখানে আসেন নাই। আমরা জানি উত্তরগুলো পাব না। সাধারণ মানুষ টেক্স দিয়ে সুস্থ থাকতে চায়।
সেলিম ওসমান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটা তার (নাসিক মেয়র আইভীর)। সুন্দর শহর সুন্দর গ্রাম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। আমার মনে হয় আমাদের এখানে দরকার ছিল না। ভদ্র মহিলার দরকার ছিল, কিন্তু তিনি নারায়ণগঞ্জের কার্যালয়ে আসেন নাই। আমরা যদি আলোচনা করতে পারতাম তাহলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু সুন্দর পরিকল্পনার কথা বলতে পারতাম। আমাদের কোনো সুযোগ নাই, সিটি কর্পোরেশনের কাজের উপর হাত দেয়ার। মেয়রের কাছে অনুরোধ রাখলাম, আলোচনা করে জানান, আমাদেরকে আপনার ভাল না লাগতে পারে, কিন্তু জেলা প্রশাসনকে আপনার ভাল লাগতেই হবে। আমরা চাই আলোচনা করে সমাধানে আসার।
তিনি আরও বলেন, আপনি আপনার জন্য কাজ করছেন, না এলাকার জনগণের জন্য কাজ করছেন। তাদের ভোটের মাধ্যমেই আপনি নির্বাচিত হয়েছেন। আপনি দোয়া পাইতে পারেন আবার বদদোয়াও পাইতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী কোন রাজনীতি চান না, তিনি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা চান। আসেন বসেন সমস্যা সমাধান করেন। আমাদের যদি কোন চাহিদা থাকে কোন মামলা থাকে তাহলে বলেন। মন্ত্রণালয়ে দৌড়িয়ে সমস্যা সমধান করে দিবো। আর যদি আপনার কোন চাহিদা থাকে তাহলে বলেন সমস্যার সমাধান করবো। অন্যথায় জনগণের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে বাধ্য হবো।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, পরিচ্ছন্ন গ্রাম পরিচ্ছন্ন শহর বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আজকের এই অনুষ্ঠান। কিন্তু আসার পথে নারায়ণগঞ্জে ঢুকতেই রাস্তার দুইপাশে আবর্জনার স্তুূপ। এইটাকে কিভাবে সরানো যায়। আর এটাই যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমাধান না করে তাহলে একজন এমপি হিসেবে আমার এই ধরনের কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারি, কিন্তু সফলতা অর্জন করবো কিভাবে?
তিনি আরও বলেন, আমরা কিন্তু আপনাদের ফোন পেলে সবকাজ ফেলে রেখে চলে আসি। আপনারা সবই করেন কিন্তু আমাদের মতো করে দেখে করে দেন না। আজকের কর্মসূচি আমাদের ভাল লেগেছে। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে যদি আমরা এগিয়ে যাই তাহলে আশা করি সফল হতে পারবো। নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করতে হবে যদি সফল হতে হয়।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের
সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিকসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিগণ।#

সংবাদটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও সংবাদ

আমাদের দৈনিক পত্রিকা পড়ুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
Customized By NewsSmart