1. admin@newsnarayanganjbd.com : newsnarayanganj :
  2. robinnganj@gmail.com : newsnganj newsnganj : newsnganj newsnganj
মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

মেয়র আইভী ও হকারদের মধ্যে সংঘষের্র ২২ মাস পর মামলা

নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩১০ জন সংবাদটি পড়েছেন
মেয়র আইভী ও হকারদের মধ্যে সংঘষের্র ২২ মাস পর মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ২০১৮ সালের ১৬জানুয়ারী ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনার প্রায় ২১ মাস পরে সরকারের ৩ মন্ত্রনালয়সহ ৭জনকে বিবাদী করে হাইকোর্টে রীট দায়ের করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ পুলিশের আইজি, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার,জেলা প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে মেয়র আইভীর দায়ের করা ঐ রীটে। বিচারপতি এম এনায়তুর রহমান ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ ঐ রীট আবেদেনের প্রেক্ষিতে গত ১১ নভেম্বর দেয়া এক রুল নিশিতে সকল বিবাদীদের কারণ দর্শানোর (শো-কজ)পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর অভিযোগ আমলে নিতে নারায়ণগঞ্জ প্রধান বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনার ২২মাস পরে গত ৪ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা খাতুনের আদালতে একটি মামলার আবেদন করলে আদালত সেটি গ্রহন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। মামলায় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯জন নেতার নাম উল্লেখ করে আসামী করা হয়েছে অজ্ঞাত ১হাজার জনকে। তবে হকারদের সাথে সংর্ষের ঘটনা হলেও মামলায় কোন হকার বা হকার নেতাদের নাম না থাকলেও ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে শামীম ওসমান এমপির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়র আইভী নিজে হাইকোর্টে রীট করলেও নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলাটির বাদী হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জিএম এ সাত্তার। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করে আসামী করা হয়েছে তারা হলেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, ঘটনাস্থলে থাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় ২২মাস ১৭দিন পরে মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, ঘটনার পর মেয়র আইভীর প্রতি আমরাও সহানুভুতি ছিল। কিন্তু ৩দিন পর পুরো বিষয়টির মেয়র আইভী সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এটা স্পষ্ট। শান্ত নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতেই এই মামলা করা হলো। জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, মেয়র আইভী জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও দলীয় প্রার্থী হয়ে তিনি হাইকোর্টে সরকারকে বিবাদী করেছেন আর নি¤œ আদালতে আওয়ামীলীগের নেতাদের আসামী করলেন। শুধু তাই নয়, সংঘর্ষের দিন মেয়র আইভীর সাথে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছাড়াও বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা ছিল যা জাতীয় গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল। তার এসব কর্মকান্ড দলের ভাবমুর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৬জানুয়ারী বিকালে মেয়র আইভী নিজেই তার সমর্থকদের নিয়ে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ শুরু করলে হকারদের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঐ সময় যুবলীগ নেতা ব্যবসায়ী নিয়াজুল ইসলামকে একা পেয়ে আইভী সমর্থকরা বেদম মারধর করে তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ছিনিয়ে নিলে তাকে উদ্ধার করতে আসা মহানগর স্বে”ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেনকেও মারধর করে আইভীপন্থীরা। এ খবর ছড়িয়ে পরলে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসলে ত্রিমুখি সংঘর্ষে পুরো বঙ্গবন্ধু সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পরিস্থিত শান্ত করতে কেন্দ্রীয় নির্দেশে এমপি শামীম ওসমান নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সংঘর্ষের পর মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবী করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়েছে। ঐ সময় তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার দাবী করেন। হামলার জন্য তিনি শামীম ওসমান এমপিকে দায়ী করেন। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার চারদিন পর ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে একটি এজাহার দাখিল করা হয়। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ এজাহারটি জিডি হিসেবে রুজু করে। এরপর এব্যাপারে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করে সিটি কর্পোরেশন। অপরদিকে ঘটনার পরদিন ১৭জানুয়ারী নিয়াজুল ইসলামের তার ছোট ভাই রিপন খানের মাধ্যমে সদর মডেল থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অস্ত্র লুটের ঘটনায় অভিযোগ দেন। পুলিশ সেটাকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। পরে হত ২৫ জানুয়ারী রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনে একটি ফুলের টব থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে হকার ইস্যুতে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনার ৮দিন পর ২৪ জানুয়ারী রাতে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন বাদী মামলাটি দায়ের করেন। এতে ১৬ জানুয়ারী বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় সরকারী কাজে বাধা, জনস্বার্থ বিঘিœত, পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। হামলার ঘটনায় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছে মামলায় অভিযোগে ১৪৩, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ শ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের দায়ের করা মামলার ব্যাপারে প্রধান আসামী নিয়াজুল ইসলাম জানান, আমরা পুরো পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ^াসী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ করি। এই দলটি করতে গিয়ে বিএনপি-জামাত আমলে আমার বড় ভাই যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম সুইটকে জেল থেকে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। আমি বিএনপি হামলার শিকার হয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাস্তার ধারে পরেছিলাম। ১/১১ এর সময় আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়া হয়েছিল। মেয়র আইভী সেই দলটিরই নেতা। তিনি মারলে কষ্ট পেতাম না কিন্তু আমার উপর হামলা করেছিল তার সাথে থাকা সেই বিএনপি জামাতের লোকেরা। ঘটনার দিন আমি ফুটপাত দিয়ে হেটে বাড়ী ফিরছিলাম। আমাকে একা পেয়ে রাস্তায় ফেলে পিটানো হল, আমার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। থানায় মামলা করতে গিয়েও সেটি মামলা হয়নি। তাই বিচার আল্লাহর কাছে দিয়ে রেখেছি। মামলার অপর আসামী মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় ও আদালতে মামলা করতে না পেরে ২২মাস পরে হাইকোর্টের মাধ্যমে মামলা করার ঘটনা দিয়ে মেয়র আইভী প্রমাণ করেছেন, তিনি কোন অদৃশ্য শক্তির কাছে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র হাতে তুলে দিতে চাচ্ছেন।
এব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানান, ফুটপাত নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। নিয়াজুল ইসলাম, যাকে প্রধান আসামী করা হয়েছে মূলত তিনি এই উচ্ছেদের পক্ষে বিপক্ষে ছিলেননা। তাকে একা পেয়ে মেয়র আইভী সমর্থকরা পিটাচ্ছিল তখন তিনি জীবন বাচাতে লাইসেন্সকৃত পিস্তল বের করেছিলেন কিন্তু কোন গুলি বর্ষন করেননি। কাছাড়া মেয়র আইভীর সেই দিন চাষাড়ার দিকে যাওয়ার কথাও ছিল না। তিনি প্রেস ক্লাবে যেতে চাইলেও কয়েকজন তাকে চাষাড়ার দিকে যেতে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং তার সমর্থকরাই প্রথমে উস্কানি দিয়ে হকারদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। তাই প্রকৃত ঘটনার কারণে এবং পরিবেশ শান্ত রাখার স্বার্থেই মামলা রুজু না করে জিডি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঐ সূত্র জানান, থানায় ও কোর্টে মামলা করতে মেয়র আইভী সরকারের উপরের মহলে তদবিরও করেছিলেন কিন্তু প্রকৃত কারণ জানতে পারায় সেটি হয়নি। কিন্তু এই মুহুর্তে এই মামলা দায়ের নারায়ণগঞ্জের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলবে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল জানান, ২২মাস পরে মামলা দায়েরের ঘটনা এবং সেই মামলায় আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাদের আসামী করাটাই প্রমাণ করে মেয়র আইভী আগেও দলের ছিলেন না এখনও নেই। তার কাধে এখনও বিএনপি-জামাতের ভুত বসে আছে। তার এসব কর্মকান্ড দলের জন্য সুখকর কোন বার্তা বয়ে আনবে না।
মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বলেন, পায়ে পরে ঝগড়া লাগাতেই এই মামলা। যাদের আসামী করা হয়েছে তারা সকলেই দলের পরীক্ষিত আর আইভীর সাথে যারা হামলায় অংশ নিয়েছিল সেদিন তাদের বেশীর ভাগই ছিল বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর, বিএনপির চিহ্নিত ক্যাডাররা। দলীয় হাই কমান্ডের উচিত বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে চিন্তা করা। তা না হলে দলে আর ত্যাগীরা থাকবে না , থাকবে শুধু অনুপ্রবেশকারীরা।
এব্যাপারে মেয় আইভীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সংবাদটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ বিভাগের আরও সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
Customized By NewsSmart