1. admin@newsnarayanganjbd.com : newsnarayanganj :
  2. robinnganj@gmail.com : newsnganj newsnganj : newsnganj newsnganj
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:১৯ অপরাহ্ন

সংবাদ থামাতে টাকার মিশনে শিক্ষক শওকত ও স্ত্রী শামিমা!

নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৩১০ জন সংবাদটি পড়েছেন
সংবাদ থামাতে টাকার মিশনে শিক্ষক শওকত ও স্ত্রী শামিমা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : মিডিয়ায় সংবাদ থামাতে টাকা নিয়ে বিশেষ মিশনে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক শওকত আলী ও তার স্ত্রী শামিমা নাসরিন। একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও সাংবাদিককে চাঁদা দাবীরও অভিযোগ তুলেছেন তারা। হুমকি দিয়েছেন মামলা করারও। শওকতের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দূর্ণীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হলেও অজ্ঞাত কারণে জেলা প্রশাসন রয়েছে নিরব। ফলে দেখা দিয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। প্রশ্ন উঠেছে এই শিক্ষক দম্পতির আলীশান বাড়ি নির্মান ও ব্যাংক ব্যালেন্সের উৎস কি? একজন শিক্ষক মাসে কত টাকা বৈধ আয়ের মাধ্যমে এতটা অর্থনৈতিক দৈত্যে পরিনত হতে পারেন? আলীশান বাড়ি থাকলেও কেনইবা তারা স্কুলের কোর্য়াটারে বসবাস করছেন ১৮ বছর ধরে? এ নিয়ে অভিভাবক মহলেও রয়েছে নানা সমালোচনা। এদিকে শওকতের এ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দূর্ণীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। দাবী উঠেছে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের।
বছরের পর বছর ধরে শওকতের এ বানিজ্যের ভাগ পেয়ে থাকেন অনেকেই। মুলত ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে চলছে কোচিং বানিজ্য ও অর্থের বিনিময়ে ভর্তি কারবার। শিক্ষক শওকতের স্ত্রী শামিমা নারায়ণগঞ্জ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক না হলেও তিনিই পরিচালনা করছেন শওকতকে। তিনি শিক্ষকতা করেন কানাইনগর কলেজে। অথচ তিনি এই স্কুলের ভেতর অবস্থান নিয়ে বনে গেছেন দন্ডমুন্ডের কর্তা। অভিযোগ রয়েছে শামিমার দাপটে এই সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের অনেকেই থাকেন কম্পমান। তিনি এই বিদ্যালয়ের কোয়াটারে অবস্থান করে সব কিছু নিয়ন্ত্রন করছেন। তার নামেই চলে কোচিং সেন্টার। বিদ্যালয়ের একজন অভিবাবক জানিয়েছেন গত বছর ভর্তির আগে শওকত আলী ও শামিমার কোচিং সেন্টারে তার মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তির জন্য মাত্র ১৫ দিন কোচিং করে। কোচিং ফি বাবদ তার কাছ থেকে নেয়া হয় চার হাজার টাকা। শিক্ষা নিয়ে এই ধরনের বানিজ্য করে বিগত কয়েক বছরে গাবতলীর টাগারের পাড় এলাকায় গড়ে তুলেছেন নতুন একটি চারতলা ভবন। কিন্তু এই ভবনটি নির্মান করার পরেও সেখানে যাচ্ছেন না তারা। বাড়িটি ভাড়া দিয়ে তারা স্কুলের ভেতরই বাস করছেন সরকারী বাসায়। এছাড়াও সোনারগাঁয়ে শওকত আলীর গ্রামের বাড়িতে বহু জায়গা জমি ক্রয় করেছেনগত কয়েক বছরে। ব্যাংকেও তার ও তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন একাউন্টে রয়েছে বিপুল পরিমান টাকা। ফলে সব কিছু মিলিয়ে তারা পরিনত হয়েছে অর্থনৈতিক দৈত্যে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে এই বিদ্যালয়ের ভেতরে দূর্ণীতির এক শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এই বিদ্যালয়ের ইংরেজীর শিক্ষক শওকত আলী এবং তার স্ত্রী শামিমা নাসরিন। শওকত আলীর পরিবার এই বিদ্যালয়ের ভেতরেই তিনটি বড় বড় রুম নিয়ে বসবাস করছেন প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে। এখানেই তার তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে এবং বড় সন্তানের বয়স প্রায় ১৭ বছর বলে জানা গেছে। আর এই সন্তানের জন্মও এই বিদ্যালয়ের কোয়ার্টারেই হয়েছে। বিদ্যালয়ের দারোয়ান এবং আয়া বুয়ারা শওকত আলী সিন্ডিকেটের সদস্য। আর এই দেড় যুগে বহু প্রধান শিক্ষক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসেছেন-গিয়েছেন। কিন্তু শওকত আলী ও তার পরিবারকে কেউ এই বিদ্যালয়েই রয়ে গেছেন। তার বদলী যেন আটকে থাকে কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায়। অভিভাবকরা বলছেন, শওকত আলী ও তার স্ত্রীর অদৃশ্য শক্তি কারা। একজন সরকারী চাকুরে হয়ে একই বিদ্যালয়ে এভাবে দেড় যুগ কাটিয়ে দেয়া এক নজিরবিহীন ঘটনা। অথচ এই সময়ে এই সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক বদলী হয়েছেন। বদলী হয়েছেন অন্যান্ন বিষয়ের শিক্ষকরাও। কিন্তু শওকত রয়েছে বহাল তবিয়তে। তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ সময়ে একবার কয়েকদিনের জন্য নারায়ণগঞ্জ সরকারী আইটি স্কুলে বদলী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই বদলী এক সপ্তাহও স্থায়ী হয়নি। এক সপ্তাহ না যেতেই তিনি আবার ফিরে আসেন এই স্কুলে। এমনকি তাকে ও তার পরিবারকে এক দিনের জন্যও বিদ্যালয়ের কোয়ার্টার বা রুমগুলি ছাড়তে হয়নি। শিক্ষকরাও বলছেন, কি মধু রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে?
এদিকে অভিবাবক মহল জানিয়েছেন বছরের পর বছর বিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বাহিরে শওকত আলী ও তার স্ত্রী অবাধে চালিয়েছেন কোচিং বানিজ্য। যখন যে প্রধান শিক্ষক এসেছেন তাকেই শওকত আলী নানা রকম উপঢৌকন দিয়ে এবং মোটা অংকের নগদ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে নিয়েছেন। শুধু শওকত আলী নয় তার চতুর স্ত্রীও প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভালো ভালো খাবার রান্না করে খাইয়ে ম্যানেজ করে নিয়েছেন। এক কথায় বিগত প্রায় আঠারো বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম সরকারী এই বিদ্যালয়টির সকল প্রকার অনিয়ম দূর্ণীতি পরিচালনা করছে এই শওকত আলী ও তার স্ত্রী। কোচিং বানিজ্য, ভর্তি কোচিং বানিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক এই শওকতের স্ত্রী শামিমা। যদিও শওকতের স্ত্রী শামিমা কয়েক বছর আগে কানাইনগর কলেজে শিক্ষিকার চাকুরী পেয়েছে। আর এই চাকুরী পেতেও দূর্ণীতির আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কারন শামিমা নিজেই ছাত্র জীবনে কোনোর ভালো ছাত্রী ছিলো না। সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে একবার ফেইল করেছে এবং দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছেন। তার ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্টও খারাপ। তারপরেও বাঁকা পথে সে এখন কানাইনগর কলেজের শিক্ষিকা। তবে সে কানাইনগর কলেজে চাকুরী করলেও বাস্তবে সে তার স্বামীর কোচিং বানিজ্যের অন্যতম কারিগর। সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের পাশেই শওকত ও শামিমা গড়ে তুলেছে “শামিমাস টিউটোরিয়াল হোম”। তবে মাঝে মাঝে প্রশাসনিক চাঁপ এলে শওকত ও শামীমা কোচিং করানোর স্থান পরিবর্তন করেছেন। এবার যেমন জেলা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে এরিব্স স্কুলের গলিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ভর্তি কোচিং করাচ্ছে তারা। তাই এবারও প্রায় এক কোটি টাকার ভর্তি কোচিং ও ভর্তি বানিজ্যকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে এই সিন্ডিকেট। আর যখন যিনিই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হন তিনি হয়ে যান এই সিন্ডিকেটের হাতের পুতুল।

সংবাদটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ বিভাগের আরও সংবাদ

Customized By NewsSmart