1. admin@newsnarayanganjbd.com : newsnarayanganj :
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জে মুজিববর্ষে ১৯ স্কুলকে ভুলে ভরা ক্রেস্ট প্রদান, ক্ষোভ

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২০
  • ২১৫ জন সংবাদটি পড়েছেন
সিদ্ধিরগঞ্জে মুজিববর্ষে ১৯ স্কুলকে ভুলে ভরা ক্রেস্ট প্রদান, ক্ষোভ

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির উদ্যোগে কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালন করা হয়। মঙ্গলবার সুমিলপাড়া আইলপাড়া এলাকায় দুপুরে নুরে মদিনা মোহেব্বীয়া বাদশা মেম্বার দ্বিনীয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্স মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, নাসিক ১০ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, ১নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ফারুকসহ অনেক নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানে ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্রেস্টে কারো নাম, কারো প্রতিষ্ঠানের নাম কারো পদবী ভুল। মজার বিষয় হলো-প্রত্যেকটি ক্রেস্টে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা। অথচ অধিকাংশ স্কুলে প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের জায়গায় প্রধান শিক্ষিকা লেখা দেখে অনেকে ক্ষুব্দ হয়েছেন। তবে লজ্জায় অনুষ্ঠানস্থলে কেউ মুখ খোলেননি। অনুষ্ঠান থেকে চলে যাওয়ার পর নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে কানাঘুসা শুরু হয়। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, আমি পুরুষ প্রধান শিক্ষক। অথচ আমার ক্রেস্টে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা।
এই ভুলের জন্য ক্রেস্ট প্রাপ্ত শিক্ষকরা বিব্রতবোধ করেন। এবং তাদের এই সম্মাননা ক্রেস্টের ছবি অন্য কাউকে দেখানো থেকে বিরত থাকেন। এবং ভুলের ভরা ক্রেস্টের ছবি প্রকাশ পেলে ওই ক্রেস্ট প্রাপ্ত শিক্ষক আয়োজকদের রোষানলে পড়তে পারেন বিধায় নিউজে ক্রেস্টের ছবি প্রকাশ করা হলো না। তবে প্রতিবেদকের কাছে ভুলে ভরা ক্রেস্টের ছবি সংরক্ষিত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্রেস্ট পাওয়া গোদনাইল প্রিপারেটরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক হলেন জাহাঙ্গীর আলম। তাকে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা। সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। তার ক্রেস্টে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা। আইডিয়াল মডেল স্কুলের নাম ভুল এবং প্রধান শিক্ষকের জায়গায় প্রধান শিক্ষিকা লেখা হয়েছে। হাজী রমিজ উদ্দিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সোহেল। তার ক্রেস্টে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা। আদমজী একটিভ হাইস্কুলেল প্রধান শিক্ষক জাবের হোসেন। তার ক্রেস্টে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা। আদমজী মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম। তার ক্রেস্টে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা। গোদনাইল বাঘপাড়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান। তার ক্রেস্টে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা। সানরাইজ মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। তার ক্রেস্টে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকা।
এছাড়া মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেয়া বিএনপির ইউসুফ খান রবিনকে ক্রেস্ট দেয়া হয়েছে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে। যা উপস্থিত অনেককে হতবাক করেছে। তারা বলেন, ইউসুফ কিভাবে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। আসলে আয়োজকরা মুর্খ হওয়ায় মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংঘা কি তা তারে জানে না। তবে ক্রেস্টে ইউসুফ এর নাম ও পদবী দুইটাতেই ভুল লেখা হয়েছে। আবার অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ডে বার্ষিকী বানানও ভুল। এবং মতিউর রহমান মতি ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ক্রেস্টে তাও উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য এরআগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংর্বধনা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করে মতিউর রহমান মতি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদান করা ক্রেস্টেও বানান ভুল ছিল। যা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবং কাউন্সিলরদের দেয়া ক্রেস্টেও নাম ও কাউন্সিলর বানান ভুল ছিল। মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ক্রেস্ট তো আর লুকিয়ে রাখার বস্তু নয়। এটা প্রকাশ্যে আমরা সংরক্ষন করি। তখন কেউ যদি ক্রেস্টে ভুল বানান দেখে নিজের কাছেই লজ্জা লাগে। তাদের সবার ক্রেস্টে লেখা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধার জায়গায় ‘মুক্তিযুদ্ধা’। সেই ক্ষোভ কাটতে না কাটতে এবার শিক্ষকদের ক্রেস্ট ভুলে ভরা। ফলে মতিউর রহমানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
তবে কেউ কেউ বলেন, মতির চারপাশে থাকা লোকগুলো হয়তো পরিকল্পিভাবে মতিকে মানুষের কাছে হেয় বা ছোট করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ভুল করছে। তাদের বদনাম হলে মতির হবে। তাদের কি? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির লোক হিসবে পরিচিত বিদেশ ফেরত নাছির ও জাকির হোসেন (মাইগ্যা জাকির হিসেবে পরিচিত) দাওয়াত কার্ড ও ক্রেস্ট বানানোর দায়িত্ব পালন করেন। নাছির নিজেকে বিএ পাশ দাবি করলেও তার শিক্ষাগতযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন ৬নং ওয়ার্ডের সচেতন মানুষ। যদি সে বিএ পাশ হয় তাহলে বার বার এমন মারাত্মক ভুল হওয়ার কথা নয়।
এ বিষয়ে মতিউর রহমান মতির বক্তব্যের জন্য তার ব্যক্তিগত নাম্বারে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আসলে দাওয়াত কার্ড, ক্রেস্ট এসব মতিভাই দেখে না। তিনি ভালোভাবে দেখারও সুযোগ পাননা। যদি কিছু ভুল হয়ে থাকে তা তার জানার অজান্তে হয়েছে।

সংবাদটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও সংবাদ

আমাদের দৈনিক পত্রিকা পড়ুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
Customized By NewsSmart