1. admin@newsnarayanganjbd.com : newsnarayanganj :
  2. robinnganj@gmail.com : newsnganj newsnganj : newsnganj newsnganj
মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম

সিদ্ধিরগঞ্জ আ’লীগে নতুন নেতৃত্ব চান না মজিবুর-ইয়াছিন

নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৬৮ জন সংবাদটি পড়েছেন
সিদ্ধিরগঞ্জ আ’লীগে নতুন নেতৃত্ব চান না মজিবুর-ইয়াছিন

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম চলছে দুই শীর্ষ নেতার ইচ্ছে-অনিচ্ছার উপর ভিত্তি করে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান। অন্যদিকে ১৬ বছর পার করছেন সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া। দীর্ঘ এই সময়ে তাদের দুইজনের কারণে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়নি সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামীলীগে। তারা এমনভাবে পদ আকড়ে আছেন কাউকে সামনেও বাড়তে দিচ্ছেন না। শিমরাইল মোড়ের ফুটপাত, পরিবহন, গার্মেন্টস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, আদমজী ইপিজেড, সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চুন শিল্প, জমি-ক্রয় বিক্রয় কোথায় নেই তারা। সব জায়গায় চলে এই শীর্ষ দুই নেতার খবরদারী। মজার বিষয় হলো মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও দলের জন্য কোন খরচ নেই এই দুই নেতার। বছরের পর বছর ধরে নিজেদের আখের গুছাচ্ছেন তারা। তবুও যেন পেট ভরছে না এই দুই নেতার। অথচ দু:সময়ের নির্যাতিত ও ত্যাগি বহু নেতাকর্মী হতাশায় দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। এতে করে মজিবুর-ইয়াছিনের পকেটভারী হলেও দলের বারোটা বেজে গেছে সিদ্ধিরগঞ্জে। যার প্রমান পাওয়া যাবে দলের দু:সময়ে।
গত ২৭ বছরে মজিবর রহমান আর ১৬ বছরে ইয়াছিন মিয়া হাইব্রিড আর অনুপ্রবেশকারী ছাড়া আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ কোন কর্মী তৈরী করতে পেরেছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, মজিবুর রহমানের আর্শিবাদে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তার আত্মীয়-স্বজনরা মামলা-হামলা থেকে গত ১০ বছর ধরে নিরাপদেই আছেন। এবং নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্যও করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ইয়াছিন মিয়া নাসিকের ২নং ওয়ার্ডে খোদ বিএনপির কাউন্সিলর ইকবালকে ২০১৬ সালে নাসিক নির্বাচনে বিজয়ী করতে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন। এবং তাকে বিজয়ী করেন। পরাজিত হয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী। ইয়াছিন মিয়ার সাথে আনোয়ার আশিকসহ বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী একটি গ্রুপ সক্রীয় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া নাসিকের ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের ছেলেকে ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত করার পেছনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষ একাধিক নেতার যোগসাজস ছিল বলে অভিযোগ উঠে। এমনকি দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছ থেকে একদিকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অন্যদিকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিএনপির প্রার্থীকেও বিজয়ী করেছেন। দলীয় মেয়রের নির্বাচন করার চেয়ে বেশি শীর্ষ দুই নেতা ব্যস্ত ছিলেন টাকার বিনিময়ে কাউন্সিলর নির্বাচনে। সব দিক মিলিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের ভেতরে বাইরে নানা ক্ষত তৈরী হয়েছে। এই ক্ষত দলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে আগামীতে।
অভিযোগ রয়েছে, দলীয় কার্যালয় ছেড়ে এই দুই শীর্ষ নেতা নিজ নিজ বাড়ির ভেতর অফিস বানিয়ে নিয়েছেন। সেখানে বসেই চলে সকল দেন-দরবার। দুইজনের অনুসারী নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথকভাবে বাড়ির অফিসে আসা-যাওয়া করে। বাড়ির অফিসে বসেই দলের ফটো সেশন মার্কা কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন শীর্ষ এই দুই নেতা। তাদের দুইজনকে গিয়ে নেতাকর্মীরাও দুইভাগে বিভক্ত। তবে দলের সভাপতি মজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়ার মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা গেলেও ভাগ-বাটোয়ার বিষয়ে দুইজনের মধ্যে রসাত্মক একটা মিল রয়েছে। তাদের মতবিরোধ উপরে উপরে আর ভেতরে ভেতরে দুইজনই একই চরিত্রের। এমন তথ্য পাওয়া গেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে।
এছাড়া শীর্ষ এই দুই নেতার মধ্যে কাদা ছোড়া ছুড়িও নিত্য দিনের ঘটনা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একে অপরকে ঘায়েল করে নানা আলোচনা-সমালোচনা করেন। মজিবুর রহমান বলছেন ইয়াছিন মিয়া বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের সাথে সখ্যতা রেখে চলছেন। আবার ইয়াছিন মিয়া বলছেন মজিবুর রহমান নিজেই আঁতাত করে চলেন গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে।
দলের সূত্রমতে, মজিবুর রহমান দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন মারা যাওয়ার পর সাধারণ সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠিত হন হাজি ইয়াছিন মিয়া। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওই সময়ের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিল এক কাউন্সিলের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করেন। এতে সভাপতি করা হয় মজিবুর রহমানকে। সাধারণ সম্পাদক করা হয় ইয়াছিন মিয়াকে। কিন্তু ১৬ বছর পেরিয়ে গেছে এই কমিটির বয়স। মেয়াদোত্তীর্ন এই কমিটির অনেক সদস্যও মারা গেছেন এবং রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন অনেকে।
দলীয় সূত্রমতে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তারা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সময় দিচ্ছেন না ঠিকমত। এমন অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মীসহ একাধিক নেতার। দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন ও নতুন নতুন নেতা সৃষ্টি না হওয়ায় দলের ভেতরে ও বাইরে হতাশা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন দলের প্রবীণ ও ত্যাগী কয়েকজন নেতা।
দলটি টানা ১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে কোন গতি নেই বললেই চলে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের ব্যানারে চোখে লাগার মতো দলীয় কর্মসুচিও তেমন একটা হয় না। আবার হলেও কর্মসূচি সফল করতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি, নাসিক ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলগংদের উপর নির্ভর করতে হয়। তারা লোকজন নিয়ে কর্মসুচিতে যোগ দেয়। যদিও তারা আওয়ামীলীগের কোন পদ-পদবীতে নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রবীণ নেতা জানান, দলীয় সুবিধা লাভের আশায় স্ব-পদে থাকতেই বর্তমান কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিল করেননি। দলের শীর্ষ দুই নেতার মাঝেই সংগঠনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। মাঝে মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কমিটির অন্যরা রয়েছেন নামমাত্র।
তারা আরও জানান, দলে নেতৃত্ব দিতে পারে তৃণমূলে এমন যোগ্য নেতাকর্মী থাকা সত্বেও দলীয় পদ আঁকড়ে ধরে থাকতেই কাউন্সিল করছে না বর্তমান দায়িত্ব প্রাপ্তরা। এ নিয়ে কমিটির মধ্যে কয়েক বছর ধরেই চাঁপা ক্ষোভ চলে আসছে।
একটি সুত্র জানায়, কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বর্তমান সাংসদের আস্থাভাজন হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখান না বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদক। নেতাকর্মীরা মনে করছেন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হলে সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থা আরো দৃঢ় হবে। এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের হাত শক্তিশালী হবে। ভোটও বাড়বে। বর্তমান কমিটির দুই শীর্ষ নেতার কারণে দিন দিন আওয়ামীলীগের ভোট কমছে ছাড়া বাড়ছে না।
যোগাযোগ করা হলে মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সম্মেলনের মাধ্যমেই কমিটি হবে। যারা যোগ্য তারাই কমিটিতে স্থান পাবে। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পরে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। শুধু সুদিনেই নয় দুর্দিনেও বহু ত্যাগ স্বীকার করে দলকে আগলে রেখেছি। বহুবার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছি। কিন্তু নেতাকর্মীদের অনুরোধে ছাড়তে পারিনি।
সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া জানান, ত্যাগী ও আসল নেতা বাঁছাই করতে চাইলে নেতা নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। আমরা চাচ্ছি সম্মেলন হোক। কিন্তু ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিল এখনো হয়নি বিধায় সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা যাচ্ছেনা। কাউন্সিলে যদি নতুন কাউকে নেতা হিসেবে বেঁছে নেয় তাতে আপত্তির কি থাকতে পারে।

সংবাদটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ বিভাগের আরও সংবাদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
Customized By NewsSmart