1. admin@newsnarayanganjbd.com : newsnarayanganj :
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

সিরিয়াল ধর্ষক রানা’র স্বীকারোক্তি প্রদান

বিশেষ প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০
  • ৬৯৯ জন সংবাদটি পড়েছেন
সিরিয়াল ধর্ষক রানা’র স্বীকারোক্তি প্রদান

চাঁদপুরের সিরিয়াল ধর্ষক রসু খাঁ’র পর এবার নারায়ণগঞ্জে আরেক সিরিয়াল ধর্ষকের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। তার নাম জসিম উদ্দিন রানা। রসু খাঁর সঙ্গে তার পার্থক্য এতটুকুই যে রসু খাঁ ধর্ষণের পর হত্যা করতো, আর রানা শুধু ধর্ষণ করেছে। মাত্র ২৩ বছর বয়সী রানার অপকর্মের হাতেখড়ি হয় মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই। গত ৯ বছরে রানার লালসার শিকার হয়েছে বিভিন্ন বয়সী ৪৮ নারী ও কিশোরী। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। দ্বিতীয় স্ত্রী সুরভী আক্তার (১৯) কে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রানা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে তার অপকর্মের কথা স্বীকার করে। রানা বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানাধীন পদ্মা করমজাতলা এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে রানা দ্বিতীয় স্ত্রী সুরভী আক্তারকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে রানা বিভিন্ন বয়সী আরও ৪৮ নারীকে ধর্ষণের কথাও স্বীকার করে। রানা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রাণ কোম্পানীর এসআর হিসেবে চাকুরি করতো। আদালতে রানার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান পিপিএম।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রানা তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুরভীকে রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার দক্ষিণবাজার এলাকার ভাড়া বাড়িতে শ^াসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পুলিশ গত সোমবার রাতে জসিম উদ্দিন রানাকে তার নিজবাড়ি বরগুনার পাথরঘাটার থানাধীর পদ্মা করমজাতলা এলাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বখে যায় রানা। সে স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করতো। এ কারণে এলাকা ছাড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতো রানা। আর যেখানেই যেতো সে এলাকার বিবাহিত বিধবা বিপত্নীক অথবা কিশোরীদের কথার মায়াজালে ফেলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ধর্ষণ করতো।
২০১৬ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নোনদা এলাকার নান্নু মিয়ার মেয়ে নাজনীন বেগম প্রেমের টানে তার কাছে চলে এলে সে তাকে নকল কাজী দিয়ে বিয়ের নাটক সাজিয়ে সংসার শুরু করে রানা। ওই সংসারে পারভীন নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। গত বছর তাকে ফেলে পালিয়ে সাভার চলে আসে রানা। সেখানে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্কের জেরে মাদারীপুরের সদর থানাধীর চরমুগুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সুরভী আক্তার তার কাছে চলে এলে আবারো নকল কাজী দিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করে রানা। কিন্ত বিয়ের ব্যাপারটি রানার কয়েকজন প্রেমিকা টের পেয়ে যাওয়ায় সে সাভার থেকে গত ২ মাস পূর্বে রূপগঞ্জে চলে আসে। এখানে প্রাণ কোম্পানীর এসআর পদে চাকুরি নিয়ে কাঞ্চন বাজারের মনির মাষ্টারের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করে।
এদিকে সুরভি নকল বিয়ে ও বহুনারীর সাথে রানার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আসল কাবিন করতে চাপ দেয়। অন্যথায় তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার হুমকি দেয় সুরভী। এতে ঘাবড়ে যায় রানা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রানা বাসায় ফিরে স্ত্রী সুরভীকে বাসায় পোলাও মাংস রান্না করতে বলে। রাতের খাবারের পর কোকাকোলার সাথে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট খাইয়ে সুরভীকে অচেতন করে শ^াসরোধে হত্যা করে বাইরে থেকে ঘর তালাবদ্ধ করে নিজ বাড়ি বরগুনায় পালিয়ে যায়। সেই সঙ্গে সুরভী মারা গেছে সেই খবর শ^শুর দেলোয়ার হোসেনকে মোবাইল ফোনে জানায়। এ ঘটনায় সুরভীর বাবা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বরগুনার পাথরঘাটার থানাধীন পদ্মা করমজাতলা এলাকার তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে রানা ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে স্ত্রী সুরভীকে হত্যা ও ৪৮টি ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।#

সংবাদটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও সংবাদ

আমাদের দৈনিক পত্রিকা পড়ুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত নিউজ নারায়ণগঞ্জ বিডি ডট নেট
Customized By NewsSmart