ওরা সবকিছু পেয়ে যায় : লিপি ওসমান

0
34
ওরা সবকিছু পেয়ে যায় : লিপি ওসমান

শহর প্রতিনিধি : এমপি শামীম ওসমানের সহধর্মীনি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি তোলারাম কলেজের নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রধান অতিথি এমপি শামীম ওসমান যখন তোলারাম কলেজের ভিপি ছিলেন তখন আমি সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। তখন তোলারাম কলেজ ভার্সেস (বনাম) মহিলা কলেজের একটা হিডেন (অদৃশ্যমান) রেশারেশি থেকেই যেত। আমরা ডানদিকে তাকিয়ে ভাবতাম ওরা সবকিছু পেয়ে যায় আমরা কিছু পাইনা। ওরা বিশ্ববিদ্যায় কলেজ আগে পেয়ে গেছে, ওদের কতো ফ্রিডম আছে, ওদের ল্যাব সবকিছু আছে। সেখানে মহিলা কলেজকে তুলনা করতে যেয়ে মনে হতো ওরা কনজারভেটিভ ও পড়াশোনায় ভাল একটা মেয়ে। আর তোলারাম কলেজকে মনে হতো দিনের পর দিন সুবিধা পেয়ে শক্তিশালী হয়ে এতোগুলো ছাত্রদের মাঝে বেড়ে ওঠা একটা কলেজ। তাই রেশারেশি খুব একটা থাকতো। আমি আশা করি এখন আর সেটা নাই। তাই আমি আজকে বা দিকে যতজন ছাত্র দেখতে পাচ্ছি তার ডান দিকে তাকিয়ে তার চেয়ে বেশি ছাত্রী দেখতে পাচ্ছি। তাই বলতে হচ্ছে ছেলেরা এলার্ট হও। মেয়েরা কিন্তু সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে পরে কিন্তু পাল্লা দিতে পারবেনা। আগে আমি মেয়েদের হয়ে বলতাম বেশি এখন দুইজনের হয়ে বলি। কারণ আমার একটা ছেলে একটা মেয়ে। তাই পারসিয়ালটি করার সুযোগ নেই। এখন আমার পরিবারে আরেকজন নতুন সদস্য (অয়ন ওসমানের পুত্র) এসেছে সেও ছেলে। তাই বাসায় ছেলেদের সংখ্যা একটু বেশি। তাই ছেলেদের বলি মেয়েরা কিন্তু রেজাল্টে, পদমর্যাদায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেখ যেন, কচ্ছপ খরগোশের দৌড় যেন না হয়ে যায়। তাই ছেলে মেয়েদের বলছি গর্জে ওঠে আবার জয় বাংলা বলে সব পেছনে ফেলে এগিয়ে চলো।
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আমারও সংসদ সদস্য কারণ আমিও তাকে ভোট দিয়েছি। একারণে ভোট দিয়েছি কারণ ওনি দেশকে ভালবাসেন, নারায়ণগঞ্জকে ভালবাসেন, তোলারাম কলেজকে ভালবাসেন। এবং উনি নারায়ণগঞ্জের জন্য ও দেশের জন্য মহত্ব অনুভব করেন তার সাক্ষ্যি আমি। এজন্য উনাকে ভোট দিয়েছি।
লিপি ওসমান আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের যেখানে দুর্ভোগ যেখানে সমস্যা সেখানে ছাত্রলীগ এগিয়ে গেছে, সহযোগিতা করেছে। ছাত্রলীগকে নিজে সহযোগিতা করতে দেখেছি। কয়েকজন পঙ্গুকে ওরা কয়েকজন মিলে হুইল চেয়ার দিয়েছে। স্কুলগুলোতে বিভিন্ন সময় সহায়তা করেছে। তবে তারাও মানুষ তাদের মধ্যে মুষ্ঠিময় যদি ভুল করে, অন্যায় করে তা দিয়ে সারা বাংলাদেশের ছাত্রলীগকে বিচার করা ভুল হবে। কারণ ভুল মানুষ করে থাকে আর সেই মানুষটা যদি কোন নাম নিয়ে থাকে কোন দলের হয়ে থাকে তাহলে সে দলটা দিয়ে বিচার করা ভুল হবে।
ছাত্রলীগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকের তালে তালে ছাত্রলীগ যখন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানটি তোলে তখন রক্তের মধ্যে একটা উত্তেজনা অনুভব করি। তখন প্রতিটি বাঙাতি চেতনায় ফিরে যায়, রক্তের মধ্যে একটা টান টান অনুভব করে। তাই এই স্লোগানটা যেন করা হয় সেই অনুরোধ করবো।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অন্যায়, অপরাধ থেকে নিজেদের রক্ষা করে আগামীর ভবিষ্যতে নতুন আলো হিসেবে তোমাদেরকে জেগে উঠতে হবে। সবাইকে শিক্ষার শক্তি দিয়ে আলো ছড়াতে হবে। এজন্য সকল অন্যায় অপরাধের হাতছানিকে দূরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তোমরাই তরুণ তোমরাই নব শক্তি। তোমাদের মধ্য দিয়ে এ দেশ জাতি এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই তোমারা এগিয়ে যাব।
তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানী সিংহের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ও প্রফেসর শাহ মো. আমিনুল ইসলাম, রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো. নাজমুল হুদা, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, মহানগর কৃষকলীগের সেক্রেটারী জিল্লুর রহমান লিটন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here