গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ

0
12
গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ

রূপগঞ্জ  প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিনিয়তই নিম্নমুখী হচ্ছে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সেবার মান। রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে কাঙ্খিত সেবা থেকে, ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলায় মুখ থুবরে পড়েছে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সেবা মান। এখানে চিকিৎসা নিতে এসে অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না এখানে। ঔষুধ পাওয়া তো রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, কর্তব্যে অবহেলা, অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে চলছে গোলাকান্দাইল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম। এখানকার দায়িত্বে রয়েছে একজন উপ-সহকারী অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও একজন অফিসের পিয়ন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোলাকান্দাইল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিয়োজিত ব্যক্তিদের যোগসাজসে ঔষধ এবং জন্মনিয়স্ত্রণ সামগ্রীর সিংহভাগ বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। জনসংখ্যা রোধে নামমাত্রমূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দপ্তরদের মধ্যে বিতরণ করার কথা থাকলেও এখানে তা করা হচ্ছে না। এলাকাবাসী জানিয়েছে, তারা এই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে নূন্যতম সেবাটুকু পাচ্ছে না। অথচ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে বড় করে লেখা আছে এখানে ২৪ ঘন্টা নিরাপদ প্রসব সেবা ( ডেলিভারী) করানো হয়। রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রতিমাসে যে পরিমাণ ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে তার ১০ভাগ ঔষধও গরিব-দুঃখী মানুষের ভাগ্যে জোটে না বলে অভিযোগ করছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মোঃ ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ঔষধ কম আসায় ঠিক মতো ঔষধ দিতে পারি না।

প্রতি মাসের ২৫/২৬ তারিখে ঔষধ আসে যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ১০/১৫ দিনেই ঔষধ শেষ হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, আমাদের এখানে সাধারণত ডেলিভারী করা হয় না তবে টাকা দিলে আমরা এখানে অন্যত্র থেকে মহিলা ডাক্তার দিয়ে ডেলিভারী করি। স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র্রগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিশেষ করে গর্ভবর্তী মা ও শিশুদের জন্য মূল্যবান ঔষধ সামগ্রী দেয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব ঔষধ রোগীদের নামে ভূয়া এন্ট্রি দেখিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এখানে কর্মরত ব্যক্তিরা সরকার প্রদত্ত ঔষধের সিংহভাগ কালোবাজারে বিক্রি করে থাকে। অপরদিকে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গর্ভপাতও ঘটানো হয় সেখানে।

কোন কোন ক্ষেত্রে গর্ভবর্তীদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে শহরের বড় ডাক্তারদের শরণাপন্ন হতে হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ এর ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোঃ বশির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। তবে বর্তমানে জনবল সংকট থাকায় পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা সম্ভব না হলেও যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা শতভাগ চেষ্টা করছেন মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমানিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here