বাবুরাইলে ৪৮ ঘন্টা পর শিশুর লাশ উদ্ধার : মামলা দায়ের

0
18

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইলে ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে শিশু ওয়াজেদের (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভবন ধসে পড়ার ৪৮ ঘন্টা পর ধসে পড়া ভবনটির নিচে চাপা পড়া অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় প্রথমে ওয়াজেদের লাশটি ধসে পড়া ভবনের নিচে সনাক্ত করা হয়। লাশ সনাক্ত করার এক ঘন্টারও বেশি সময় পর লাশটি তুলে আনা হয়। ভবনের নিচে চাপা পড়ে ওয়াজেদের মুখমন্ডল থেঁতলে গেছে। লাশে পচন ধরে গেছে। ওয়াজেদের লাশ উদ্ধারের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ধার অভিযান শেষ করে ফায়ার সার্ভিস। লাশটি উদ্ধারের পর ওয়াজেদের বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ওই সময় ঘটনাস্থলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহত ওয়াজেদ ওই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
গত রোববার বিকেলে ভবনটি ধসে পড়লে তাৎক্ষণিক মারা যায় ওয়াজেদের খালাত ভাই সোয়েব। সোয়েব ও ওয়াজেদ সমবয়সী এবং স্থানীয় সানরাইজ কিন্ডার গার্টেনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এদিকে ওই ঘটনায় নিহত সোয়েবের মামা মোঃ রনি বাদি হয়ে গতকাল মঙ্গলবার ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামী করা হয়েছে ওই বাড়ির মালিক, জেবুন্নেচ্ছা, বাবু, শিউলি, আজাহার হোসেন ও সুমনকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন। আসামীরা সম্পর্কে একে অপরের ভাই বোন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারি পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ঘটনার পর থেকে শিশু ওয়াজেদ নিখোঁজ ছিল। গতকাল দুপুর ২টার দিকে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত হয়। শিশুটি ধসে পড়া ভবনের নিচতলার একটি পিলারের নিচে চাপা পড়ে ছিল। লাশ উদ্ধার করে শিশুটির পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরেই উদ্ধার অভিযান শেষ ঘোষণা করা হয়। নিখোঁজ শিশুটির লাশ উদ্ধার আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।
উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেলে হঠাৎ করেই নগরের বাবুরাইল শেষ মাথায় কেউট্টার বাড়ি (বড় বাড়ি) এলাকায় এইচএম ম্যানশন নামে ৪ তলা ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার দিন সোয়েব নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় ৪ জন। নিখোঁজ ছিল অপর স্কুল শিক্ষার্থী ওয়াজেদ।
এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেহেনা আক্তারকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৮ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here