অন্য কর্মস্থল থেকে হাসিমুখে বিদায় নিলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরলেন চোখের জলে

0
11
অন্য কর্মস্থল থেকে হাসিমুখে বিদায় নিলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরলেন চোখের জলে

বিশেষ প্রতিবেদক : বিশতম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন এসপি হারুন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্র জীবন থেকেই সে ছিল বেপরোয়া স্বভাবের। তার সেই বেপরোয়ার ভাব ছিল পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পরেও। পুলিশে যোগ দেওয়ার পর নানা কারণেই সে ছিল আলোচিত-সমালোচিত। বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুককে সংসদ ভবনের সামনে মারধর করে আলোচনায় আসেন হারুন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। যেখানেই পদায়িত হয়েছেন সেখানেই কোন না কোন ভাবে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। তবে ওইসব কর্মস্থল থেকে হাসিমুখে ফিরলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে কেঁদে ফিরেছেন বিতর্কিত এই এসপি।
গত বছরের ২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার পদে যোগদানের পর এসপি হারুন বেশ দম্ভ করেই পূর্ববর্তী কর্মস্থল গাজীপুরে কী করে এসেছেন তা বলে বেড়াতেন। কিন্তু তিনি ভুলে গিয়েছিলেন গাজীপুর আর নারায়ণগঞ্জ এক নয়।
নারায়ণগঞ্জে এসেই তিনি ডেমকেয়ার ভাব নিয়ে চলাফেরা শুরু করেন। তিনি শহীদ মিনারে প্রেস ব্রিফিং করতেন, কিন্তু তখন নগরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক বন্ধ রেখে বিশাল যানজটের সৃষ্টি করতেন। চলাফেরা করতেন আগে পেছনে পুলিশ প্রহরা নিয়ে। অথচ অতীতের এসপিদের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়নি।
কথায় কথায় রাজনীতিবিদদের হেয় করে বক্তব্য দেওয়া ছিল তার স্বভাবের অংশ। নিজেকে জাহির করতে পছন্দ করতেন। গাজীপুরে তিনি কী করে এসেছেন তা বলে মানুষকে ভয় দেখাতেন। কিন্তু তিনি ভুলে গেছিলেন, এটি নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জের সব শ্রেণি পেশার মানুষ সাহসী। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ২৫ মার্চের কালো রাতের পর নারায়ণগঞ্জেই প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। সেই নারায়ণগঞ্জের মানুষকে ভয় দেখানো এত সহজ নয়-এটা বোধহয় এসপি হারুন বুঝতে পারেননি।
গাজীপুরের এসপি থাকাকালীন তার কথিত একটি পেশার কিছু দালাল ছিল। নারায়ণগঞ্জে এসেও তিনি কিছু দালাল বেছে নেন। শেষ পর্যন্ত ওই দালাল শ্রেণিটিই তার গুণগানে মত্ত ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
পাপ বাপকেও ছাড়ে না-এ মন্ত্রটিই শেষ পর্যন্ত এসপি হারুনের জন্য সত্য বাক্যে পরিণত হয়েছে। পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে আম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেলের কাছে ৮ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে প্রথমে তার গাড়ি ঢাকা ক্লাব থেকে তুলে আনে হারুন ও তার বাহিনী। এরপরের রাতে গুলশানের বাড়ি থেকে রাসেলের স্ত্রী ও সন্তানকে একই কায়দায় তুলে নিয়ে আসা হয়। এরপর রাসেলের গাড়ি থেকে মাদক ও অস্ত্র পাওয়ার নাটক সাজিয়ে তার ও তার গাড়ি চালক সুমনের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দেওয়া হয় হারুনের নির্দেশে। সরকারের উচ্চ মহলের নজরে এলে হারুনকে ৩ নভেম্বর বদলী করা হয়। এরপরও সে ওই বদলীয় আদেশ না মেনে গত ৪ দিন একই পদে বহাল থাকার চেষ্টা করেন। পরে গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল তাকে দেখে উষ্মা প্রকাশ করলে অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে আসেন এসপি। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি চোখের চলে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিদায় নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here