চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে

0
18
চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে

বিশেষ প্রতিবেদক : ‘চেয়ে চেয়ে দেখলাম, তুমি চলে গেলে, আমার বলার কিছু ছিল না’-হৈমন্তী শুক্লার এই গানটির মতোই অবস্থা নারায়ণগঞ্জের সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কথিত ভক্তদের (দালাল)। বৃহস্পতিবার বিতর্কিত এসপি হারুন অর রশিদের বিদায় অনুষ্ঠানে ওই দালাল শ্রেণিকে আবেগাপ্লুত বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জে এদের পরিচয় হোয়াইট ক্রিমিনাল হিসেবে।
গতকাল এসপির বিদায় অনুষ্ঠানটির নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ১২টায়। কিন্তু ওই সময় লোকসমাগম না হওয়ায় সেটি আড়াইঘন্টা দেরীতে দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়। ওই সময় বিদায় অনুষ্ঠানের মঞ্চে ৩ পেশার ৩ জন দালাল শ্রেণির লোককে দেখা গেছে।
ওই তিন দালালের মধ্যে একজন একটি কথিত বিশেষ পেশার মানুষ। অপর জন রাজনীতিবিদ এবং তৃতীয় জন ব্যবসায়ি কমিউনিটির নেতা।
বিশেষ পেশার মানুষটি বিশেষ পেশার হলেও নারায়ণগঞ্জের সংকটে তাকে কখন অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যায়নি। অতীতে নারায়ণগঞ্জের একটি পরিবারের আজ্ঞাবহ হলেও ২০০৩ সালে ওই পরিবারের এক সদস্যের ত্রিশ লাখ টাকা মেরে দিতে স্থানীয় সরকারের একটি নির্বাচনে অংশ নেন। এরপরেই তার চেহারা পাল্টে যায়। আজ্ঞাবহ সেই লোকটিই এখন ওই পরিবারটির সবচেয়ে বড় সমালোচক। তিনি যে পরিবারটির সমালোচনা করেন সেই পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজনের ছেলের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছেন। তিনি ওই পরিবারটিকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিলেও তাকে দুর্নীতিবাজ এসপির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। এসপি হারুনের মতো এত বড় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা দেশে নেই বললেই চলে। যে নাকি অপহরণ করে টাকা আদায় করে।
মঞ্চে থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি একজন রাজনীতিবিদ। তিনি জেলায় পল্টিবাজ রাজনীতিবিদ হিসেবেও পরিচিত। পদে জন্য এক পক্ষে, পদে বাগিয়ে অন্য পক্ষে চলে যাওয়া তার স্বভাব। রাজনীতিতে তিনি ওয়ানম্যান শো হিসেবেই পরিচিত। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অধীনে থাকা নারায়ণগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রয়েছেন। পদে বসেই তিনি কমিশনের লোভে ওই প্রতিষ্ঠানের বিশাল অংকের টাকা এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে সরিয়ে নিয়ে ডিপোজিট করেন। এই দুর্নীতিবাজের মুখেই অপর দুর্নীতিবাজের প্রশংসা মানায়।
মঞ্চে থাকা তৃতীয় ব্যক্তি একটি ব্যবসায়ি সংগঠনের কর্ণধার। কিছুদিন পূর্বে এই তিনিই ব্যবসায়িদের হয়রানির প্রতিবাদে ব্যবসায়িদের নিয়ে সমাবেশ করেছেন। বলেছেন, এসপি হারুন ব্যবসায়িদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। সেই সঙ্গে শ্লোগান দেন-‘চা খাওয়ার দিন শেষ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।’ এ শ্লোগান দিয়ে তিনি নিজেই কিভাবে দুর্নীতিবাজ এসপির বিদায় অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপবিষ্ট হলেন এ জিগাংসা সাধারণ মানুষের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here