এসপি হারুনের ডিবির টিম ছিনতাইও করতো

0
14
এসপি হারুনের ডিবির টিম ছিনতাইও করতো

বিশেষ প্রতিবেদক : বিতর্কিত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ আনুষ্ঠানিকভাবে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিদায় নেয়ার পর প্রতিদিনই চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। তবে সাহস করে ভুক্তভোগিদের কেউ কেউ মুখ খুললে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হচ্ছেন না। তাদের, এসপি হারুন চলে গেলেও তার সহযোগি কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এখনো নারায়ণগঞ্জে রয়ে গেছে।

তারা সব কিছু মনিটরিং করছে। সুযোগ পেলে আবারো নানাভাবে হয়রানী করবে। এরমধ্যে ডিবিতে রয়েছে এসপি হারুনের অপকর্ম বাহিনীর বেশি সদস্য। এই সদস্যরা মাদক দিয়ে ফাঁসানো, অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতি পর্যন্ত করতো। দিন-রাত জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাদের হয়রানীর শিকার হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। টার্গেট টাকা। টাকার জন্য এসপি হারুন পাগল ছিল। এরজন্য তার মনে যা চাইতো তিনি তা-ই করতেন। ডিবির একাধিক টিম তার মিশন সাকসেস করতো প্রতিদিন।

এমনই একটি ঘটনার শিকার রূপগঞ্জের রূপসী পেট্টোল পাম্পের স্টাফ অলিউল্লাহ। ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পেট্টোল পাম্পের সন্নিকট থেকে ডিবির একটি টিম অলি উল্লাহকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয়। তারপর তার হাতে হ্যান্ডকাপ পড়ানো হয়। অলি উল্লার সাথে থাকা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় গাড়িতে থাকা ডিবির সদস্য। কিন্তু পরবর্তীতে তার হাতের হ্যান্ডকাপ খুলতে না পেরে হ্যান্ডকাপসহ তাকে নরসিংদী রোডে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। পরে সিকদার পেট্টোল পাম্পের লোকজন রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থলে গিয়ে অলি উল্লাহকে উদ্ধার করে।
সিকদার পেট্টোল পাম্পের সূত্রমতে, অলিউল্লাহ ঘটনার দিন সাড়ে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেয়। পরে ব্যাংকে এক ব্যবসায়ি তেল নেয়ার জন্য অলি উল্লাহকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা দেয়। এই টাকা নিয়ে সে পাম্পে ফেরার সময় তাকে ডিবি পরিচয়ে উঠিয়ে নিয়ে যায়। ডিবির কাছে হয়তো তথ্য ছিল অলি উল্লাহর সাথে অনেক টাকা আছে। কিন্তু সে যে পাম্পের ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ফিরতেছিল এটা হয়তো তারা জানতো না। সুত্রটি আরো জানায়, এমন ঘটনা নারায়ণগঞ্জ ডিবি অনেক ঘটিয়েছে। খোঁজ নিলে জানতে পারবেন।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসানের সাথে শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা শিকার করেন।
এদিকে এমন তথ্যের বাইরে গিয়ে আরো জানা যায়, ডিবির টিমগুলো তাদের গাড়িতে ইয়াবা, অস্ত্র, ফেনসিডিলসহ বেআইনী নানা কিছু রাখতো। পরে দাবীকৃত টাকা না দিলে যাকে যা দিয়ে ফাঁসানো যায় সেই ব্যবস্থা করতো। মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর ছেড়ে দিতো। আর যে দিতো না বা তার কাছে চাহিদা মতো টাকা নেই তখন মিডিয়ার সামনে হাজির করে বাহাবা নিতো এসপি হারুন। মিডিয়াও ফলাও করে সেই সংবাদ প্রকাশ করতো। মোট কথা মিডিয়াকেও মাঝে মাঝে বোকা বানিয়েছে এসপি হারুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here